হাত ভে’ঙে দিয়েছে ছে’লে, ঈদের দিন মা কাঁদছেন বৃদ্ধাশ্রমে

Published: 23 Jun 2021 View: 602
হাত ভে’ঙে দিয়েছে ছে’লে, ঈদের দিন মা কাঁদছেন বৃদ্ধাশ্রমে...




ছে’লে-মে’য়ে নাতি-নাতনি সবই ছিল তার সংসারে। শহরা বানু বেগম বয়স ৬৫ বছর। বয়সের ভা’রে ভা’রাক্রান্ত শহরা করতে পারতেন না সংসারের কোনো কাজ। এ নিয়েই ছে’লের বউয়ের সঙ্গে ঝগড়াঝাটি হইতো প্রায়ই। বউয়ের কথা শুনে ছে’লেও তাকে গালমন্দ করতো। কিন্তু এক দিন শুধু গালিগালাজই নয়; নিজের মাকে প্রচণ্ড মা’রধোর করে ছে’লে। মা’রের চোটে ভে’ঙে যায় বৃদ্ধা মায়ের ডান হাত। এতেই ক্ষান্ত হয়নি ছে’লে এবং ছে’লের বউ। মাকে বের করে দিয়েছে নিজের বাড়ি থেকেই। এরপর রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ভাঙ্গা হাত নিয়েই কাটিয়েছেন ৬ মাস। গত এক বছর ধরে শহরার ঠিকানা ঢাকার ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার’ নামের একটি বৃদ্ধাশ্রমে। ওই বৃদ্ধাশ্রমের তত্ত্বাবধায়ক বলেন, ‘হাত ভাঙা এবং অনেক বেশি অ’সুস্থ অবস্থায় শহরা বানুকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতা’লের সামনে পড়ে ছিলেন৷ সেখানে থেকে তাকে এক বছর আগে আম’রা এই বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে এসেছি। এরপর তার চিকিৎসা করিয়েছি। এখন তার শরীর কিছুটা সুস্থ। কিন্তু ভাঙা হাতটি আর ভালো হয়নি তার।’

ঈদের দিনে নিজের জীবনের ক’ষ্টমাখা স্মৃ’তিগুলো বলতে বলতে ডুকরে ডুকরে কাঁদছিলেন শহরা বানু। বলেন, ‘পোলাডা আমা’রে মা’রছে। হাত টা ভাংঙে দিছে। নাতিরাও মা’রতো। এখন তো ওরা ভালোই আছে।’শহরা বানুর এমন কা’ন্নাভরা কথাগুলো শুনছিলেন পাশে বেডে বসা হামেদা বেগম। কথা শেষ না হতেই হামেদা বলে উঠলেন, ‘ও রা কি মানুষ। ওরা মানুষ না জানোয়ার। মায়েরে মাই’রা হাত ভে’ঙে দিছে।’ হামেদা বানুও বৃদ্ধাশ্রমের একজন বাসিন্দা। তার গ্রামের বাড়ি মঠবাড়িয়ায়। স্বামীর মৃ’ত্যুর পরে ঠাঁই মেলেনি ছে’লের সংসারে। রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে অ’সুস্থ হয়ে মৃ’ত্যুর পথযাত্রী হচ্ছিলেন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লের সামনে থেকে তাকে নিয়ে এসেছে চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ারের কর্মীরা। এখন এটাই তার শেষ আশ্রয়স্থল। সবুরা বেগম জো’রে জো’রে গান গাচ্ছিলেন তার নিজের বেডে শুয়ে শুয়েই। যদিও কি গান গাচ্ছিলেন সেটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল না। কাছে যেতেই উঠে বসলেন তিনি৷ এক দৃষ্টিতে কীভাবে যেন তাকালেন। এরপর বললেন, ‘বাবা কেমন আছেন আপনারা।’




সবুরা বয়স ৭০ বছর। তিনি বহু দিন ধরে এখানে থাকছেন তিনি। সবুরা বেগম বলেন, ‘আমা’র জন্ম পুরান ঢাকায়। ওখানে মেলা সম্পত্তি। কিন্তু কেউ খোঁজ নেয়া না। ভাই, মাইয়া কেউ আসে না। ওরা মনে হয় ভাবছে আমি মই’রা গেছি।’ বৃদ্ধাশ্রমের তত্ত্বাবধায়ক বলেন, ‘সবুরা বেগমকে বছর দেড়েক আগে সুত্রাপুর এলাকায় পড়ে থাকতে দেখে আমাদের খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে তাকে গিয়ে আম’রা নিয়ে আসি।’

রাজধানীর কল্যাণপুর এলাকায় অসহায় ও আশ্রয়হীন বৃদ্ধদের জন্য ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার নামে এই প্রতিষ্ঠানে এখন সব মিলিয়ে ১২৫ জন না’রী, পুরুষ ও শি’শু রয়েছে। সংস্থাটির মালিক মিল্টন সমাদ্দার বলেন, ‘আমা’র গ্রামের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর। এই যুগে অনেক সন্তানরা নিজের পিতা মাতাকে সময় দিতে চায় না। যান্ত্রিক সভ্যতা ও নিজেদের ব্যস্ততার কারণে অনেকেই ভুলতে বসেছে তাদের আপনজনদের। অসহায় ও আশ্রয়হীন এমন বৃদ্ধদের খুঁজে বের করাটা এখন আমা’র নে’শা ও পেশা হয়ে গেছে। নিজের ব্যবসা থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে কুড়িয়ে পাওয়া বৃদ্ধদের ভরণপোষণ করি আমি। একই সঙ্গে মৃ’ত্যৃর পর তাদের দাফন-কাফনের দায়িত্বও আম’রা পালন করে থাকি। আমা’র স্ত্রী’ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চাকরি করেন। তার চাকরির অর্থও এখানেই ব্যয় করা হয়।’




মিন্টন বলেন, ‘আমি ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বৃদ্ধাশ্রমটি শুরু করেছিলাম। এখানে মোট ১২৫ জন বাবা মা এবং তাদের সাথে ১৮ জন শি’শুও রয়েছে। আসলে মানুষ মানুষের জন্য। আমি নিজে এটা পরিকল্পনা করে করিনি। রাস্তায় পড়ে থাকা বৃদ্ধদের দেখে সহ্য হয়নি। আশ্রয় দিয়েছি। এভাবে একজন, দুজন করে আজ শতাধিক মানুষকে একই ছায়ায় রেখেছি। আমি মনে করি, মানুষ কখনো রাস্তায় পড়ে থাকতে পারে না। চেষ্টা করছি পরিচয়হীন, অ’জ্ঞা’ত, অ’সুস্থ, রাস্তায় পড়ে থাকা বৃদ্ধ এবং প্রতিব’ন্ধী ও অসহায় শি’শুদের পাশে দাঁড়াতে।’
মিন্টন সমাদ্দার আরও বলেন, ‘এখন আমাদের নিজস্ব একটি জমি হয়েছে সাভা’রে। সেখানে একটি বিল্ডিং করবো আম’রা। তবে বর্তমানে মুল সমস্যা হলো লা’শ দাফন। এখানকার বৃদ্ধ বাবা মায়েরা মা’রা গেলে তাদের লা’শ দাফন করতে অনেক অ’সুবিধা হয়। লা’শগুলো যেন সরকার কবরস্থানে ফ্রি দাফন করতে পারি তার জন্য সিটি কপোরেশন, সমাজ সেবা অধিদপ্তরসহ অনেক জায়গায় আবেদন করেছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। কেউই বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না।’

Watch Videos

পাগলিটা মা হয়েছে, বাবা হয়নি কেউ!

25 Feb | Watch Video

দেশের বৃহত্তম আশ্রম এখন হিমশিমে!

25 Feb | Watch Video

তৈরি হচ্ছে দেশের বৃহত্তম আশ্রম! এগিয়ে আসুন সবাই

25 Feb | Watch Video

তৈরি হচ্ছে ৭০০ মানুষের আশ্রয় কেন্দ্র! || Child & Old Age Care.

25 Feb | Watch Video

৭০ হাজার মানুষেরে পাশে দাঁড়িয়েছে Child & Old Age Care.

25 Feb | Watch Video

Most Read
Watch Featured Videos

© Child And Old Age Care 2015-2025
Creating Document, Do not close this window...