Page View: 2,946,020 | Online: 3
child.oldagecare@gmail.com +8801622 220222 +8801633 330333

‘আমার ছেলেমেয়েরা বেঈমান, ওদের কাছে কখনোই যাবো না'


Posted: 12 Feb 2022 | Published: Feb 2022

‘আমার ছেলেমেয়েরা বেঈমান, ওদের কাছে কখনোই যাবো না' সামেলা আমজাদ। বয়স ৭০ বছর। ব্রিটিশ আমলে তার দাদা চলে গিয়েছিলেন লন্ডনে। সেখানেই তার বাবারও জন্ম। তাই জন্ম সুত্রে লডনেই বেড়ে ওঠা এই নারীর। পড়াশোনাও করেছেন লন্ডনের নাম করা বিশ্ববিদ্যালয়ে।



কিন্তু স্বামী সংসার ছেড়ে এই নারীর ঠিকানা এখন বাংলাদেশের বৃদ্ধাশ্রমে। তার চার মেয়ে ও দুই ছেলে সবাই লন্ডনে প্রতিষ্ঠিত। শেষ বয়সে বৃদ্ধা মাকে বোঝা মনে হয় তাদের। তাই সকলে মিলে টিকেট করে অনেকটা জোর করেই বৃদ্ধা মাকে তুলে দেয় বাংলাদেশের একটি বিমানে।

৭০ বছরের বৃদ্ধা সামেলা আমজাদ বাংলাদেশের এয়ারপোর্টে নেমেই হারিয়ে ফেলেন তার পাসপোর্ট, ভিসা ও লাগেজসহ সবকিছু। এরপর রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। কখন রুটি, কখনো ভাত চেয়ে-চেয়ে খেতেন এই সুশিক্ষিতা বয়স্ক নারী।
বাংলাদেশে কখনো আসা হয়নি তার। তাই বাংলার চেয়ে ইংরেজিতেই বেশি কথা বলেন তিনি। এয়ারপোর্টের সড়কে তাকে আবিষ্কার করেন এক সংবাদকর্মী। এরপর সবকিছু শুনে খবর পাঠান কল্যানপুরের ‘চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ার’ নামের একটি বৃদ্ধাশ্রমে। পরে সেই বৃদ্ধাশ্রমের লোকজন তাকে এয়ারপোর্টের সড়ক থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।

এরপর থেকে বিগত ৫ বছর ওই বৃদ্ধাশ্রমেই রয়েছেন লন্ডন থেকে আসা সামেলা আমজাদ। বৃদ্ধাশ্রমের সবাই তাকে এখন "লন্ডনী খালা" বলেই ডাকেন। ‘চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ার’ নামের ওই বৃদ্ধাশ্রমে থাকা সামেলা আমজাদ ও বৃদ্ধাশ্রমের কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে এসব ঘটনা জানা যায়। অনুমতি পাওয়ার পর বৃদ্ধাশ্রমে থাকা সামেলা আমজাদের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় লন্ডনে জন্ম ও বেঠে ওঠার গল্প। তখন তিনি বলেন, "আমার নাম সালেমা আমজাদ। বয়স ৭০ বছর হবে। এই বৃদ্ধাশ্রমে ৪/৫ বছর ধরে আছি। এর আগে লন্ডনে থাকতাম। ওখানেই জন্ম, ওখানেই সবকিছু, ওখানেই বিয়ে, ওখানেই বাচ্চা কাচ্চা। ওখানেই থাকা লেখাপড়া, সব ওখানেই। "

তিনি আরও বলেন, "আমার বাবারও জন্ম লন্ডনে। আমার দাদাও লন্ডনেই থাকতেন। আমার বাবার জন্ম লেখাপড়া সবই ওই লন্ডনে। সেই সুত্রে আমিও লন্ডনেই আমার জন্ম, সেখানেই বড় হয়েছি। পড়াশোনা করেছি। "আপনি কিভাবে বাংলাদেশে এলেন জানতে চাইলে সামেলা আমজাদ বলেন, "ছেলে-মেয়ে জোর করে আমাকে প্লেনে তুলে পাঠাই দিল। তখন বিমানে তারা কি বলে দিল জানি না। বাংলাদেশের এয়ারপোর্টে বিমান থেকে আমাকে নামিয়ে দিয়েই বিমান করে উড়ে চলে গেলো। বিমান ল্যান্ড করার পর আমাকে বলল নামেন, নামলাম। আর কিছু বলতে পারি না। আমার পাসপোর্ট কই, ব্যাগ কই জানি না।"

কাদতে কাদতে তিনি বলেন, "এরপর আমি এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে হাটতে হাঁটতে ঘুরি ফিরি রাস্তায়। কেউ একটা রুটি দেয় খাই, একটা পরটা দেয় খাই, একটা মুঠ মুড়ি দেয় খাই। এভাবেই রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম। তখন এক সাংবাদিক সবকিছু শুনে মিল্টন এর এই বৃদ্ধাশ্রমে খবর দেয়, পরে মিল্টন গিয়ে আমাকে এই বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে আসে।"

বৃদ্ধাশ্রমের মালিক মিল্টন সমাদ্দার সম্পর্কে তিনি বলেন, "মিল্টনের মত লোক এই পৃথিবীতে দ্বিতীয়টা আর জন্ম নেবে না। সে খুব ন্যায় নীতিবান লোক। লন্ডনে আমার চার মেয়ে ও ২ ছেলে আছে। কিন্তু এখন মিল্টনই আমার এক মাত্র সন্তান বলে আমি মনে করি।"

সন্তানদের স্মৃতিচারন করে এই বৃদ্ধা অভিমানের সুরে বলেন, "আমার লন্ডনের ছেলেমেয়েরা আমার খোঁজ নেয় না, তাই আমিও তাদের খোঁজ নেই না। আমি যখন লন্ডনে ছিলাম তখনও তারা কেউ আমার খোঁজ নেয়নি। তাদের প্রতি আমার কোন ইন্টারেস্ট নাই।"

আপনার ছেলেমেয়েরা যদি এখন লন্ডন থেকে আপনাকে নিতে আসে যাবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, "না। কখনোই যাবো না। ও রকম বেঈমানের সঙ্গে যাবো না। ওরা বেইমান। যে ছেলেমেয়ে মাকে দেখে না। মা'র কথা মনে করে না। সেই ছেলেমেয়ের কথা আমি কেন মনে।করবো। করা কি উচিত। এসব নিয়ে এখন আমার মনে আর কোন দুঃখ নেই। "

আপনাকে সবাই লন্ডনি খালা বলে ডাকে কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, "এক ভদ্র মহিলা এই বৃদ্ধশ্রমে এলো, এসে আমার রুমেই থাকতো। তিনিই আমাকে লন্ডনি লন্ডনি বলে ডাকতেন। এখন সবাই লন্ডনি বলেই ডাকে। বৃদ্ধাশ্রমের এই বাসিন্দা সামেলা আমজাদ সম্পর্কে জানতে চাইলে "চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ার’ এর পরিচালক মিল্টন সমাদ্দার বলেন, "সামেলা আমজাদকে আমরা ঢাকা এয়ারপোর্টের সড়ক থেকে নিয়ে এসেছি। এক ব্যক্তি খবর দিয়েছিল। তিনি নাকি লন্ডন থেকে বিমানে এসেছেন। এরপর আমরা তার পরিবার স্বজনের খোঁজ করার অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু আজও কেউ তার কোন খোঁজ নেয়নি।"

For Emergency Call

+88 02 58050680, +8801622 220222, +8801633 330333

Creating Document, Do not close this window...